পিরিয়ডের রক্তে মিলবে দুরারোগ্য রোগের সন্ধান : নতুন গবেষণা

নিউজ ডেস্ক: পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের রক্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ট্যাবুর অস্তিত্ব থাকলেও বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এখন গবেষণার এক নতুন দিগন্ত। আর দশজন নারীর মতো এমা ব্যাকলুন্ডও প্রতি মাসের এই শারীরিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতেন না। কিন্তু ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বায়োটেক স্টার্টআপ যখন গবেষণার জন্য তার পিরিয়ডের নমুনা চাইল, তিনি সানন্দে রাজি হয়ে গেলেন। এর পেছনে ছিল তার দীর্ঘদিনের এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী এমা জানান, মাত্র ১১ বছর বয়সে যখন তার প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়, তখন ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে তিনি ভেবেছিলেন মারা যাচ্ছেন। এরপর থেকে প্রতিটি মাস তার জন্য ছিল এক আতঙ্কের নাম। অসহ্য যন্ত্রণায় তাকে নিয়মিত বমি করতে হতো, স্কুল কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মনে হতো পেটের ভেতর কেউ ছুরি দিয়ে অনবরত আঘাত করছে।

দীর্ঘ ১৩ বছর লড়াই করার পর এমা জানতে পারেন তিনি এন্ডোমেট্রিওসিস নামক এক জটিল রোগে আক্রান্ত। বিশ্বজুড়ে প্রজননক্ষম বয়সের প্রায় ১৯ কোটি নারী এই সমস্যায় ভোগেন। জরায়ুর ভেতরের কোষ যখন বাইরে বাড়তে শুরু করে, তখনই এই রোগের সৃষ্টি হয়। এর ফলে পিরিয়ডের সময় প্রচণ্ড রক্তপাত, তীব্র পেট ব্যথা এবং এমনকি বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যাও হতে পারে।

দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এন্ডোমেট্রিওসিস শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিত হতে ৫ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সাধারণত ল্যাপারোস্কপির মতো জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে ক্যামেরা ঢুকিয়ে এই রোগ পরীক্ষা করতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতেই গবেষকরা এখন পিরিয়ডের রক্ত নিয়ে কাজ করছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, পিরিয়ডের রক্ত কেবল একটি বর্জ্য নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরের এক প্রাকৃতিক বায়োপসি। কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয়ে প্রস্রাব বা সাধারণ রক্ত ব্যবহার করলেও ঋতুস্রাবের রক্ত সবসময় অবহেলিত ছিল। অথচ এই বিশেষ রক্তে প্রোটিন, হরমোন, ব্যাকটেরিয়া এবং জরায়ুর কোষের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে থাকে।

নেক্সটজেন জেন নামক প্রতিষ্ঠানের প্রধান রিধি তারিয়াল জানান, পিরিয়ডের রক্ত পরীক্ষা করে জরায়ুর ক্যানসারসহ প্রজনন অঙ্গের নানা জটিলতা শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণ রক্ত বা লালা থেকে যা জানা যায় না, পিরিয়ডের রক্তে সেই সব আণবিক সংকেত পাওয়া যায়। এটি অস্ত্রোপচারের চেয়ে অনেক বেশি সহজ, সাশ্রয়ী এবং যন্ত্রণাহীন পদ্ধতি।

গবেষক ক্রিস্টিন মেটজ এবং জেনেটিক্স বিশেষজ্ঞ পিটার গ্রেগারসেন প্রায় ৩,৭০০ নারীর ওপর গবেষণা চালিয়ে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন। তারা দেখেছেন, এন্ডোমেট্রিওসিস আক্রান্ত নারীদের শরীরে বিশেষ কিছু রোগ প্রতিরোধকারী কোষের ঘাটতি থাকে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে পিরিয়ডের রক্তের মাধ্যমেই জটিল রোগের দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

লেখাটি শেয়ার করুন:

আরও সংবাদ পড়ুন

ব্লুমো নিউজ দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ ও তথ্যের মাধ্যমে আপনাকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন