নিউজ ডেস্ক: স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের সরকার একটি বিশেষ রাজকীয় ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নথিবিহীন অভিবাসীদের জন্য আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
স্পেন সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি এবং ভারতীয়সহ কয়েক লাখ অভিবাসী এখন নিয়মিত হওয়ার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত আইনি সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বিদ্যমান আইনের সংশোধন হওয়ায় পার্লামেন্টে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। আগ্রহী অভিবাসীরা ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারছেন। এছাড়া আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি সরকারি দপ্তরে গিয়ে আবেদন করার সুযোগ মিলবে। আবেদনের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
বৈধতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই চলতি বছরের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া অন্তত পাঁচ মাস ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন এমন প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। আবেদনকারীর কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না। শুরুতে তাদের এক বছরের জন্য কাজ ও বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এই পদক্ষেপকে ‘ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, চার কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে যারা ইতোমধ্যে কাজ করছেন, তাদের সমান অধিকার ও কর দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এই পদক্ষেপ স্পেনের শ্রমঘাটতি পূরণ এবং পেনশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্ত ইউরোপের অন্যান্য দেশের অভিবাসন নীতির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। যদিও স্পেনের রক্ষণশীল বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে, তবে ক্যাথলিক চার্চ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সূত্র : অনলাইন।


















