আধুনিক জীবনে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা এখন একটি বড় সংকট। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের চার দেয়ালের বদলে খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে রাত কাটালে বা ‘ক্যাম্পিং’ করলে ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। গবেষকদের মতে, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে প্রকৃতির সাথে নতুন করে মিলিয়ে নিতে সাহায্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কেনেথ রাইট জানান, আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ আধুনিক কৃত্রিম আলোর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। এক সপ্তাহ ক্যাম্পিং করার পর দেখা গেছে, মানুষের শরীরের মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং ঘুমের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আসে।
গবেষকদের মতে, সময়মতো ঘুমানো এবং ভোরে জেগে ওঠা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যারা দেরি করে ঘুমান, তাদের হৃদরোগ, বিষণ্নতা ও স্থূলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। ক্যাম্পিং করলে কোনো কৃত্রিম আলো বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার না হওয়ায় শরীর প্রাকৃতিক ছন্দে ফিরে আসে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা থেকেও দেখা গেছে, পাখিদের কিচিরমিচির আর সূর্যের আলোতে ঘুম ভাঙলে সারাদিন সতেজ অনুভূত হয়। এমনকি শীতকালীন ক্যাম্পিংয়েও মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে দুই ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পায়। তাই সুনিদ্রা ও সুস্থ থাকতে মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


















