সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তিতে কমছে  ‘সুখ‘

নিউজ ডেস্ক: অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ বা বৈশ্বিক সুখ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা দিনে ৫ ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের ভালো থাকার মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশ কম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর তরুণদের মধ্যে অসুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

প্রতি বছর ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক সুখ দিবসে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। গ্যালআপের তথ্যমতে, বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত ২০ বছরের তুলনায় অনেক দেশে তরুণরা এখন আগের চেয়ে কম সুখী। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে মধ্য ইউরোপের কিছু দেশে শক্তিশালী পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে তরুণদের সুখের হার বেড়েছে।

গবেষকরা বলছেন, মূলত সামাজিক চাপের কারণে তরুণরা এসব অ্যাপ ছাড়তে পারছে না। হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক ক্যাস সানস্টেইন জানান, অনেক তরুণ মনে করে অন্যরা ব্যবহার করছে বলেই তাদেরও থাকতে হবে। জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপগুলো বন্ধ রাখলে তরুণরা বেশি সুখী ও কম বিষণ্ণ বোধ করেন, তবুও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভয়ে তারা এগুলো ব্যবহার চালিয়ে যান।

এই প্রতিবেদনে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ওপর বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মেয়েদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। বিশেষজ্ঞরা এই মাধ্যমগুলোকে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের পণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সাইবার বুলিং, আসক্তি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো তরুণদের মানসিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

গ্যালআপ ও জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া সরাসরি ক্ষতিকর না হলেও এর অতিমাত্রায় ব্যবহারই মূল সমস্যা তৈরি করছে। সুস্থ থাকতে তরুণদের এই মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। সূত্র : সিএনএন।

লেখাটি শেয়ার করুন:

আরও সংবাদ পড়ুন

ব্লুমো নিউজ দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ ও তথ্যের মাধ্যমে আপনাকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন