চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বর্তমানে অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের চ্যাটবট অনেক সময় অত্যন্ত ‘আত্মবিশ্বাসের সাথে’ ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের এক তরুণী আবির অভিজ্ঞতা এর একটি বড় উদাহরণ। একবার সাধারণ ইনফেকশনের ক্ষেত্রে সঠিক পরামর্শ পেলেও, পরে একটি দুর্ঘটনার পর চ্যাটবট তাকে ভুল তথ্য দেয়। সামান্য পিঠের চোটকে চ্যাটবট ‘শরীরের ভেতর অঙ্গ ফেটে যাওয়ার’ মতো গুরুতর সমস্যা বলে দাবি করে, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব তথ্য সঠিকভাবে দিলে চ্যাটবট ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক উত্তর দিতে পারে। কিন্তু মানুষের সাথে সাধারণ আলাপচারিতার সময় এই নির্ভুলতার হার নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৩৫ শতাংশে দাঁড়ায়। এর মানে হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ চ্যাটবট থেকে ভুল রোগ নির্ণয় বা ভুল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য পাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অধ্যাপক স্যার ক্রিস হুইটি মনে করেন, চ্যাটবটের দেওয়া উত্তরগুলো এখনো চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নিখুঁত নয়। এমনকি স্ট্রোকের মতো জরুরি অবস্থায় যেখানে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চ্যাটবট ভুল করে রোগীকে বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার, ভ্যাকসিন এবং পুষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও চ্যাটবট বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, সরাসরি চ্যাটবটের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অথবা স্বীকৃত স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ।


















