ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবে ‘অ্যাসপিরিন’, নেপথ্যে চমকপ্রদ তথ্য

প্রায় ৪ হাজার বছরের পুরনো পরিচিত ব্যথানাশক ওষুধ অ্যাসপিরিন এখন ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন আশা দেখাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরে টিউমার হওয়া এবং তা ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ফলে ইতিমধ্যে অনেক দেশের স্বাস্থ্যনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

ব্রিটেনের বাসিন্দা নিক জেমস তার পরিবারের অনেকের অন্ত্রের ক্যানসার দেখে বেশ শঙ্কিত ছিলেন। বংশগত কারণে তার শরীরে ক্যানসার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। এরপর তিনি একটি গবেষণার অংশ হিসেবে ১০ বছর ধরে নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ ও ক্যানসারমুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু জিনের সমস্যার কারণে যাদের অন্ত্রের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন দারুণ কার্যকর হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে এই ওষুধ নিয়মিত সেবন করা বিপজ্জনক হতে পারে।

অ্যাসপিরিনের ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন মেসোপটেমীয় এবং মিশরীয় সভ্যতায় ব্যথানাশক হিসেবে উইলো গাছের ছাল ব্যবহার করা হতো। পরে বিজ্ঞানীরা এটি থেকে আধুনিক অ্যাসপিরিন তৈরি করেন। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি এটি যে ক্যানসার রুখতে পারে, তা প্রথম জানা যায় সত্তরের দশকে ইঁদুরের ওপর করা একটি গবেষণায়।

২০১০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাসপিরিন ক্যানসার হওয়া এবং তা শরীরে ছড়িয়ে পড়া উভয়ই কমিয়ে দেয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করছেন, ঠিক কোন রহস্যময় কারণে এই সাধারণ ওষুধটি এমন শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। এটি প্রমাণিত হলে ক্যানসার চিকিৎসায় এক বিশাল বিপ্লব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখাটি শেয়ার করুন:

আরও সংবাদ পড়ুন

ব্লুমো নিউজ দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ ও তথ্যের মাধ্যমে আপনাকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন