মানসিক চাপ কি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

মানসিক চাপ কি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সন্তান জন্মদানে সমস্যার ক্ষেত্রে সাধারণত নারীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ তাদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বীর্যের গুণমান ও শুক্রাণুর সংখ্যার ওপর এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো হেলথের ইউরোলজিস্ট ও সার্জন ড. জামিন ব্রহ্মভাট জানান, অনেক পুরুষই বুঝতেই পারেন না যে তাদের প্রজনন সমস্যার পেছনে মানসিক চাপ বড় ভূমিকা রাখছে। যখন শরীর দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকে, তখন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি সাময়িকভাবে কার্যকর হলেও দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস শরীরকে ক্লান্ত করে দেয়, যার ফলে ঘুমের অভাব, ওজন বৃদ্ধি এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

শুক্রাণু তৈরি হতে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তাই দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ বীর্যের গুণমান নষ্ট করতে পারে। গবেষকরা ১,২০০ জন পুরুষের ওপর এক সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, যারা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, তাদের শুক্রাণুর ঘনত্ব ও সংখ্যা অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপের ফলে পুরুষরা অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। পর্যাপ্ত না ঘুমানো, ব্যায়াম না করা কিংবা ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্তি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। ড. ব্রহ্মভাট বলেন, যৌন সক্ষমতা আর প্রজনন ক্ষমতা এক নয়। একজন পুরুষ যৌনজীবনে স্বাভাবিক থাকলেও তার শুক্রাণুর সমস্যা থাকতে পারে।

যদি কোনো দম্পতি এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পরও সফল না হন, তবে পুরুষের উচিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। বীর্য বিশ্লেষণ বা সিমেন অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে খুব সহজেই শুক্রাণুর অবস্থা জানা সম্ভব। তবে শুধু ‘রিলাক্স’ থাকা সমাধান নয়, বরং সুস্থ জীবনধারা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।

লেখাটি শেয়ার করুন:

আরও সংবাদ পড়ুন

ব্লুমো নিউজ দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ ও তথ্যের মাধ্যমে আপনাকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন